রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ১১:২৬ এএম

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়

ছবি: সংগৃহীত

সিনেমার পর্দায় দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের মন জয় করার পর এবার বাস্তব রাজনীতির মঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়লেন তামিল সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। বহু আলোচিত ও উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক যাত্রার পর অবশেষে তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন। রোববার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহেরু ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই বর্ণাঢ্য শপথ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানস্থলে ছিল উৎসবের আমেজ। হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতে পুরো স্টেডিয়াম পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বিজয় যখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছিলেন, তখন ভক্তদের করতালিতে চারদিক মুখর হয়ে ওঠে। তার রাজনৈতিক যাত্রার এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করতে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা-মা, যারা সন্তানের এমন অর্জনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

শপথ অনুষ্ঠানে বিজয়ের পোশাক ছিল সাদা শার্ট ও গাঢ় রঙের ব্লেজার। শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি তাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। দীর্ঘদিনের চলচ্চিত্র জীবনের পর রাজনীতিতে তার এই উত্থানকে অনেকেই এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার দীর্ঘদিনের সহ-অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানও। নীল সিল্কের শাড়িতে তার উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। সামাজিকভাবে জনপ্রিয় এই তারকার উপস্থিতি অনুষ্ঠানের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেয়।

রাজনৈতিকভাবে বিজয়ের দল এককভাবে ১০৮টি আসন পেয়ে রাজ্যের বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে কিছুটা কম থাকায় সরকার গঠন নিয়ে শুরুতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং অন্যান্য কয়েকটি ছোট দলের নিঃশর্ত সমর্থন তাকে সরকার গঠনের পথ সুগম করে দেয়।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জোটে কংগ্রেসের অংশগ্রহণ দীর্ঘ সময় পর তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট রাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

অনুষ্ঠানের আগে রাজ্যপালের সঙ্গে বিজয়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। রাজ্যপালকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে তিনি রাজনৈতিক সৌজন্যের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন বলে উপস্থিত অনেকে মন্তব্য করেন।

তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও বিজয়ের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিধানসভায় নিজের সরকারকে স্থিতিশীলভাবে পরিচালনা করা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা থেকে সরাসরি রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে আসীন হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বিজয়ের জনপ্রিয়তা তাকে রাজনীতিতে বড় সুবিধা দিলেও বাস্তব প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন তার জন্য কঠিন পরীক্ষা হতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তার তারকা ইমেজ শুরুতে জনসমর্থন বাড়াতে সাহায্য করলেও দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক কৌশলই তার সফলতার মূল নির্ধারক হবে।

অন্যদিকে সমর্থকদের মধ্যে এখন উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে চলছে প্রশংসা ও অভিনন্দনের ঢল। অনেকেই মনে করছেন, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এটি একটি নতুন যুগের সূচনা।

সব মিলিয়ে থালাপতি বিজয়ের এই অভিষেক রাজ্য রাজনীতিতে যেমন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তেমনি ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!