প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
তামিলনাড়ুর নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়, যিনি জনপ্রিয়ভাবে ‘থালাপতি’ বিজয় নামে পরিচিত, দায়িত্ব গ্রহণের পরই কঠোর নীতি ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নাগরিক অধিকার রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তাঁর সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না।
তিনি বলেন, ধর্ম, জাতি বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের ওপর সহিংসতা বা বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না। অপরাধী যে সম্প্রদায়েরই হোক, আইনের চোখে সবাই সমান এবং শাস্তির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না—এমন কঠোর অবস্থান তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সামাজিক শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত পদক্ষেপ হলো রাজ্যজুড়ে বিপুল সংখ্যক মদের দোকান বন্ধের নির্দেশনা।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্য পরিচালিত বিপণন সংস্থার অধীনে থাকা ৭০০-রও বেশি মদের দোকান পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে। প্রাথমিক ধাপে ৭১৭টি দোকান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব দোকানের একটি বড় অংশ ধর্মীয় স্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনবহুল পরিবহন কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত বলে জানানো হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়, স্কুল, কলেজ কিংবা বাস টার্মিনালের কাছাকাছি নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে মদের দোকান রাখা যাবে না। এই নির্দেশ কার্যকর হলে আরও অনেক দোকান স্থানান্তর বা বন্ধের আওতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে কয়েক হাজার মদের দোকান চালু রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে রাজস্ব আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকার বলছে, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এই ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত বিজয়ের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে এটি তার সরকারের নীতি-দর্শনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, যেখানে সামাজিক সংস্কার ও জনকল্যাণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি সম্প্রসারণ, নারীদের নিরাপত্তায় বিশেষ বাহিনী গঠন এবং মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা।
বিশেষ করে মাদক ও সামাজিক অপরাধ দমনে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে তার সরকারের এজেন্ডায়। এসব উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মদের দোকান বন্ধ হলে রাজ্যের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নই মূল লক্ষ্য।
এছাড়া আগের প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের ঘোষণাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই কঠোর আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সংস্কারের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়।



