প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিদেশি সমর্থকদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বহু আলোচিত ভিসা জামানত নীতিতে শিথিলতা এনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বিশ্বকাপ দর্শকদের জন্য অর্থ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে বিশ্বকাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সহজ করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নতুন ঘোষণায় বলা হয়েছে, যেসব দর্শক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপের টিকিট সংগ্রহ করে বিশেষ সমর্থক কর্মসূচিতে যুক্ত হবেন, তাদের আর অতিরিক্ত নিরাপত্তা জামানত জমা দিতে হবে না। এর ফলে বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা সহজে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় চালু হওয়া ভিসা জামানত নীতির আওতায় বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের অস্থায়ী ভিসা পেতে অতিরিক্ত অর্থ জমা রাখতে হতো। এই অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় পাঁচ হাজার থেকে পনেরো হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত। সফর শেষে নির্ধারিত সময়ে নিজ দেশে ফিরে গেলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে সেই নীতিতে আংশিক পরিবর্তন এনে এখন দর্শকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে মার্কিন প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বিশ্বকাপের টিকিট কিনে বিশেষ সমর্থক কর্মসূচিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে ভিসা জামানত ছাড়াই আবেদন করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার বিষয়ক বিভাগের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার বলেন, বৈধ ভ্রমণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজন সফল করতে বিদেশি সমর্থকদের জন্য ভ্রমণ প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হচ্ছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, জামানত শিথিল করা হলেও নিয়মিত ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া আগের মতোই চালু থাকবে। অর্থাৎ আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পরিচয় ও সফরের উদ্দেশ্য যাচাই করে ভিসা দেওয়া হবে।
এই নীতির আওতায় বর্তমানে যেসব দেশের নাগরিকদের অতিরিক্ত জামানত জমা দিতে হতো, তাদের মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল এবং তিউনিসিয়া। এসব দেশের সমর্থকদের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত বিশেষ স্বস্তি নিয়ে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও সমর্থকের আগমন ঘটবে বলে আশা করছে দেশটির প্রশাসন। পররাষ্ট্র দপ্তরের ধারণা, টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রায় এক কোটি দর্শনার্থী বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে পারেন। ফলে হোটেল, পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে বিশাল অর্থনৈতিক গতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন শহরে বিশ্বকাপের খেলা শুরু হবে। তিন দেশের যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই আসরকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে একাধিক দেশে বিশ্বকাপের আয়োজন হতে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে ইতোমধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং দর্শকসেবা বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। স্টেডিয়াম সংস্কার থেকে শুরু করে যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন—সবখানেই চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিসা জামানত শিথিলের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেবে। কারণ অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা অনেকের জন্য ভ্রমণে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে আফ্রিকা ও উন্নয়নশীল দেশের সমর্থকদের জন্য এটি ছিল বড় চাপের বিষয়।
অনেকে মনে করছেন, বিশ্বকাপকে সফল ও দর্শকবান্ধব করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে শুধু পর্যটন নয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং এটি বিশ্ব সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনের বড় মঞ্চ। সেই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করতেই সমর্থকদের জন্য ভ্রমণ সহজ করার পদক্ষেপ নিয়েছে আয়োজক দেশগুলো।
এখন বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকের চোখ আগামী বিশ্বকাপের দিকে। আর সেই অপেক্ষার মধ্যেই নতুন এই সিদ্ধান্ত অনেক দর্শকের জন্য বিশ্বকাপ যাত্রার পথ আরও সহজ করে দিল।



