রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে মরক্কো-স্পেনের মুখোমুখি অবস্থান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ১১:১১ এএম

২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে মরক্কো-স্পেনের মুখোমুখি অবস্থান

ফাইল ছবি

২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। মরক্কো ও স্পেন—দুই দেশই নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আয়োজনের প্রত্যাশা করছে। এর মধ্যেই মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লাকজা দাবি করেছেন, ক্যাসাব্লাঙ্কার কাছের বেনস্লিমান শহরে নির্মাণাধীন হাসান-২ স্টেডিয়ামেই বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

তবে মরক্কোর এই দাবির সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে সিদ্ধান্ত যথাসময়ে জানানো হবে। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত কোনো দেশকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনালের আয়োজক হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়নি।

মরক্কোর রাজধানী রাবাতের একটি রাজনৈতিক সমাবেশে ফৌজি লাকজা বলেন, বেনস্লিমান শহরই বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্মাণাধীন হাসান-২ স্টেডিয়ামকে ঘিরেই ফাইনাল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এমনকি মরক্কো জাতীয় দলকে নিজেদের দেশে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে খেলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

অন্যদিকে স্পেনও ফাইনালের দাবিতে পিছিয়ে নেই। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষের প্রধান রাফায়েল লৌসান সম্প্রতি বলেছেন, পুরুষ ও নারী—উভয় ফুটবলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্পেনের ফাইনাল আয়োজনের যৌক্তিক দাবি রয়েছে। তবে তিনিও স্বীকার করেছেন, ফাইনালের আয়োজক হিসেবে স্পেনের নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। ফলে তিন দেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচটি কোন দেশে হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবল মহলের একটি অংশ মনে করছে, যেহেতু স্পেন ও পর্তুগাল ইউরোপের দেশ এবং যৌথ আয়োজনের বড় অংশ তাদের ওপর রয়েছে, তাই ফাইনাল ইউরোপের মাটিতেই হওয়া উচিত।

ফাইনালের জন্য স্পেনের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু এবং বার্সেলোনার পুনর্নির্মিত ক্যাম্প ন্যুর নাম আলোচনায় রয়েছে। সংস্কার শেষে ক্যাম্প ন্যুতে এক লাখের বেশি দর্শক বসার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে বেনস্লিমানে নির্মাণাধীন হাসান-২ স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশাল ধারণক্ষমতার কারণে মরক্কোর নতুন স্টেডিয়ামটি বিশ্বকাপের ফাইনালের জন্য আকর্ষণীয় ভেন্যু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে বিতর্কের পেছনে শুধু ক্রীড়া বিষয়ই নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতাও আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কো ও স্পেনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। উত্তর আফ্রিকার স্পেন নিয়ন্ত্রিত সেউতা সীমান্তে ব্যাপক মানুষের প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল।

এর পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্ব নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে নানা ধরনের চাপ ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে মরক্কোর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে দুই দফায় মরক্কো সফর করেছেন এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তবে এসব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণের মধ্যেও ফাইনালের আয়োজক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ফলে মরক্কোর দৃঢ় দাবি এবং স্পেনের পাল্টা প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোন দেশের মাটিতে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, সেটি জানতে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা করতে হবে ফিফার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।
 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!