রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নারী এশিয়া কাপ

ভারতের কাছে ৪০ রানে হেরে বিদায় বাংলাদেশের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

ভারতের কাছে ৪০ রানে হেরে বিদায়  বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত

এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানের পরাজয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের করা ১৪৯ রানের জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রানের বেশি করতে পারেনি নিগার সুলতানার দল। ফলে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ভারত। বাংলাদেশের বোলাররা প্রথম দিকে বেশ নিয়ন্ত্রিত ছিলেন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানাকে ফিরিয়ে দেন সুলতানা খাতুন। তবে এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। বিশেষ করে ফিল্ডিংয়ে একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় ভারতের রান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

ভারতের ইনিংসে মোট পাঁচটি ক্যাচ ফসকে যায় বাংলাদেশের ফিল্ডারদের হাত থেকে। এর মধ্যে শেফালি ভার্মার ক্যাচই তিনবার মিস হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান শেফালি। ৪০ বল মোকাবিলা করে ৬৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাটেই ভারতের সংগ্রহ লড়াই করার মতো অবস্থানে পৌঁছে যায়।

বাংলাদেশের বোলাররা শেফালিকে ছাড়া ভারতের অন্য ব্যাটারদের খুব বেশি সময় স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে দেননি। তবে মাঝারি রানের কয়েকটি ইনিংস মিলিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। হারমানপ্রীত কৌর ২৮ বলে ২৪ রান করেন। অন্যদিকে ভারতের ইনিংসে আরও একটি কার্যকর অবদান আসে ১৬ বলে ২১ রানের ইনিংস থেকে। বাংলাদেশের হয়ে সুলতানা খাতুন নেন দুটি উইকেট।

জয়ের জন্য ১৫০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ শুরুতে খুব একটা খারাপ অবস্থায় ছিল না। দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস মিলে উদ্বোধনী জুটিতে ২৬ রান যোগ করেন। ১৮ বলে ১৪ রান করে জুয়াইরিয়া ফেরার পর ভাঙে এই জুটি। কিছুক্ষণ পর দলীয় ৩৫ রানে আউট হন দিলারা।

তবে বাংলাদেশের মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় রান তোলার গতি। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৪৬ রান সংগ্রহ করে দলটি। প্রয়োজনীয় রান ও হাতে থাকা বলের ব্যবধান ক্রমেই বাড়তে থাকায় শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর চাপ আরও তীব্র হয়।

চাপ সামলাতে না পেরে পরপর উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। দলীয় ৬৬ রানে সোবহানা মোস্তারি, ৭৬ রানে অধিনায়ক নিগার সুলতানা এবং ৮৩ রানে শারমিন সুলতানার বিদায়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়। নিগার যখন আউট হন, তখন জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল শেষ পাঁচ ওভারে ৭৪ রান। এত বড় লক্ষ্য অতিক্রম করা তখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

শেষদিকে স্বর্ণা আক্তার ১৮ বলে অপরাজিত ২২ রান করে পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমান। কিন্তু তার লড়াইও দলকে জয়ের কাছাকাছি নিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১০৯ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

ভারতের হয়ে বল হাতে দীপ্তি শর্মা তিনটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন। বাংলাদেশের ধীরগতির ব্যাটিং, নিয়মিত উইকেট হারানো এবং ভারতের শক্তিশালী বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি একতরফা হয়ে যায়। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার পান শেফালি ভার্মা।

ম্যাচে বাংলাদেশের পরাজয়ের পেছনে ফিল্ডিংয়ের সুযোগ নষ্ট করাও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শেফালির ক্যাচ একাধিকবার হাতছাড়া না হলে ভারতের সংগ্রহ আরও কম হতে পারত। অন্যদিকে রান তাড়ার সময় প্রথম ১০ ওভারে প্রয়োজনীয় গতিতে রান তুলতে না পারায় শেষ দিকে অসম্ভব চাপ তৈরি হয়।

এশিয়া কাপের যাত্রা শেষ হলেও বাংলাদেশ নারী দলের সামনে এখন আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা রয়েছে। টুর্নামেন্ট শেষে দেশে ফিরছে না নিগার সুলতানার দল। দুবাই থেকেই তারা জাপানের উদ্দেশে রওনা হবে এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সেই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় বাংলাদেশের জন্য হতাশার হলেও সামনে এশিয়ান গেমসে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকছে নিগারদের। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী প্রতিযোগিতায় আরও শক্তভাবে ফেরার লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের নারী দলের।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!