রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সন্ধান পেলো বার্সেলোনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সন্ধান পেলো বার্সেলোনা

ফাইল ছবি

বার্সেলোনার আক্রমণভাগে রাফিনিয়ার নতুন ভূমিকা যেন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দলের নিয়মিত কেন্দ্রীয় স্ট্রাইকারের ঘাটতি সামলাতে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে আক্রমণের একেবারে কেন্দ্রে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোচ হানসি ফ্লিক। শুরুতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে তার জবাব দিয়েছেন রাফিনিয়া।

লা লিগার চলতি মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই ছয় গোল করে গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। শুধু ঘরোয়া প্রতিযোগিতাতেই নয়, ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতাতেও তার গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। ফেয়েনোর্ডের বিপক্ষে করেছেন আরও দুটি গোল। ফলে নতুন মৌসুমের শুরুতেই বার্সেলোনার আক্রমণে নিজের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছেন তিনি।

রাফিনিয়ার এই পরিবর্তন অবশ্য পুরোপুরি আকস্মিক নয়। প্রায় এক দশক আগে ইউরোপীয় ফুটবলে তার শুরুর সময়েও তাকে কেন্দ্রীয় আক্রমণভাগে খেলানোর অভিজ্ঞতা হয়েছিল। সে সময় ভিটর কাম্পেলোস ভিক্টোরিয়া গিমারেজের দ্বিতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে রাফিনিয়ার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান তিনি।

কাম্পেলোসের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ মৌসুমে পোর্তো বি দলের বিপক্ষে একটি ম্যাচের শেষদিকে রাফিনিয়াকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে মাঠে নামানো হয়েছিল। কারণ, তখনই তার মধ্যে এই পজিশনে সফল হওয়ার মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গুণ দেখতে পেয়েছিলেন কোচ। বিশেষ করে গোলের সামনে তার ঠান্ডা মাথা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

রাফিনিয়ার বর্তমান সাফল্যে তাই খুব একটা বিস্মিত নন তার সাবেক কোচ। তার মতে, তরুণ বয়সেই রাফিনিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি ছিল গোলরক্ষকের সঙ্গে একের বিপরীতে এক অবস্থায় তার নিখুঁত ফিনিশিং। সামনে সুযোগ পেলে গোল করার ক্ষেত্রে সে ছিল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী।

এক দশক পর সেই একই বৈশিষ্ট্য আরও পরিণত রূপে দেখা যাচ্ছে রাফিনিয়ার খেলায়। বার্সেলোনার ইতিহাসে লা লিগার প্রথম চার ম্যাচে অন্তত ছয় গোল করা খেলোয়াড়দের তালিকায় তিনি এখন বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। এর সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার গোল যোগ হওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই তার পরিসংখ্যান হয়ে উঠেছে আরও চমকপ্রদ।

রাফিনিয়ার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও তাই আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উইংয়ে খেললেও এখন কেন্দ্রীয় আক্রমণভাগে তার কার্যকারিতা নতুন করে সামনে এসেছে। তার সাবেক কোচ মনে করেন, ভবিষ্যতে এই পজিশনটিই রাফিনিয়ার প্রধান ভূমিকা হয়ে উঠতে পারে।

এ ক্ষেত্রে তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের উদাহরণ টেনেছেন। রোনালদোও ক্যারিয়ারের শুরুতে মূলত উইংয়ে খেলতেন। সময়ের সঙ্গে তার খেলার ধরন বদলেছে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি হয়ে উঠেছেন আক্রমণের কেন্দ্রীয় শক্তি। রাফিনিয়ার ক্ষেত্রেও তেমন একটি বিবর্তন সম্ভব বলে মনে করছেন কাম্পেলোস।

তবে রাফিনিয়ার মূল্য শুধু গোল করার দক্ষতায় সীমাবদ্ধ নয়। বার্সেলোনার উচ্চচাপের আক্রমণাত্মক কৌশলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। প্রতিপক্ষ নিজেদের রক্ষণ থেকে আক্রমণ শুরু করার সময় তাদের ওপর চাপ তৈরিতে রাফিনিয়ার দৌড়, আগ্রাসন এবং পরিশ্রম দলের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠেছে। উইংয়ে কিংবা মাঝখানে—দুই জায়গাতেই তার কাজের পরিধি প্রশংসা পাচ্ছে।

বার্সেলোনায় এখন পর্যন্ত চার মৌসুমে রাফিনিয়া ১৮২ ম্যাচে ৮৩ গোল করেছেন এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন ৫৩ বার। এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।

গত বছর বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারের দৌড়েও রাফিনিয়ার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা হয়নি তার। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তার সাবেক কোচ। তার মতে, রাফিনিয়ার কঠোর পরিশ্রম, উন্নতির ধারাবাহিকতা এবং মাঠের পারফরম্যান্স বিবেচনায় তাকে এই স্বীকৃতির দাবিদারদের একজন হিসেবে অবশ্যই রাখা উচিত ছিল।

একসময় ইউরোপের বড় কোনো ক্লাবে খেলবেন—এমন প্রত্যাশা থাকলেও রাফিনিয়া একদিন বার্সেলোনা ও ব্রাজিলের আক্রমণের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠবেন, তা হয়তো তার শুরুর সময়েও সহজে অনুমান করা যায়নি। তবে পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার মানসিকতা তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

হানসি ফ্লিকের সাহসী সিদ্ধান্ত সেই পুরোনো সম্ভাবনাকেই যেন নতুন করে সামনে এনেছে। এখন প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় আক্রমণভাগে রাফিনিয়ার এই দুর্দান্ত রূপ কি সাময়িক সাফল্য, নাকি দীর্ঘমেয়াদে বার্সেলোনার আক্রমণের নতুন পরিচয় হয়ে উঠবে?

 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!