রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বার্সেলোনার ইতিহাসে নতুন আর্থিক মাইলফলক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম

বার্সেলোনার ইতিহাসে নতুন আর্থিক মাইলফলক

ছবিঃ সংগৃহীত

করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কায় একসময় গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছিল বার্সেলোনা। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ঋণের চাপ এবং আয় কমে যাওয়ার কারণে ক্লাবটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন। সেই কঠিন সময় পেরিয়ে এবার নিজেদের ইতিহাসে বড় এক আর্থিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে স্পেনের ঐতিহ্যবাহী এই ফুটবল ক্লাব। প্রথমবারের মতো এক মৌসুমে ১০০ কোটি ইউরোর বেশি রাজস্ব আয় করেছে বার্সেলোনা।

২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাবটির মোট আয় প্রায় ১১০ কোটি ইউরোতে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার সমান। এর আগের মৌসুমে আয় হয়েছিল প্রায় ৯৯ কোটি ৪০ লাখ ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীর্ঘদিনের আর্থিক পুনর্গঠনের পর এই সাফল্যকে ক্লাবটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্সেলোনার আয়ের প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তাদের ঐতিহাসিক মাঠ ক্যাম্প ন্যু। দীর্ঘ সংস্কারকাজের পর গত মৌসুমে ধীরে ধীরে নিজেদের মাঠে ফিরতে শুরু করে দলটি। মৌসুমের প্রথম দিকে অবশ্য ঘরের ম্যাচের জন্য ইয়োহান ক্রুইফ স্টেডিয়াম ও অলিম্পিক স্টেডিয়াম ব্যবহার করতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ক্যাম্প ন্যুতেও সীমিতসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে ম্যাচ আয়োজন করা হয়।

মাঠটি এখনো পুরোপুরি চালু না হওয়া সত্ত্বেও সেখান থেকে আয় বাড়ার বিষয়টি ক্লাবের আর্থিক পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, ক্যাম্প ন্যু পুরোপুরি দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হলে ম্যাচের টিকিট বিক্রি, মাঠকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয় আরও বাড়বে।

পৃষ্ঠপোষকতা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকেও আয় বেড়েছে। ক্লাবের পণ্য বিক্রির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানটি গত মৌসুমে প্রায় ২০ কোটি ইউরোর ব্যবসা করেছে। এ ছাড়া কঙ্গোর পর্যটন সংস্থার সঙ্গে প্রায় ৪ কোটি ইউরোর একটি চুক্তিও ক্লাবের মোট আয়ে যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার বার্সেলোনার আর্থিক অবস্থাকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

বার্সেলোনা ২০১৮ সালেই এক মৌসুমে ১০০ কোটি ইউরো আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সেই পরিকল্পনা বড় ধাক্কা খায়। দর্শকশূন্য ম্যাচ, বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং স্টেডিয়াম থেকে আয় কমে যাওয়ায় লক্ষ্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। প্রায় আট বছর পর অবশেষে সেই প্রত্যাশিত আয় ছাড়িয়ে গেল ক্লাবটি।

শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, মাঠের খেলাতেও গত মৌসুমে সাফল্য পেয়েছে বার্সেলোনা। কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দ্বিতীয়বার স্পেনের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছে তারা। মাঠের সাফল্যের সঙ্গে আয় বৃদ্ধির এই সমন্বয় ক্লাবটির সামগ্রিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তবে আয়ের দিক থেকে এখনো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের পেছনে রয়েছে বার্সেলোনা। গত মৌসুমে রিয়ালের আয় ছিল প্রায় ১২০ কোটি ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদই প্রথম ফুটবল ক্লাব হিসেবে এক মৌসুমে ১০০ কোটি ইউরোর বেশি রাজস্ব আয় করার নজির গড়েছিল।

বার্সেলোনা অবশ্য ব্যবধান কমিয়ে আনছে। দল শক্তিশালী করতেও গত গ্রীষ্মে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে ক্লাবটি। আর্থিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি মাঠের সাফল্য, বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধি এবং ক্যাম্প ন্যুর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার আগামী দিনে বার্সেলোনার আয় আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে একসময় আর্থিক সংকটে থাকা বার্সেলোনার এই ঘুরে দাঁড়ানো ক্লাবটির অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্যাম্প ন্যু পুরো সক্ষমতায় ফিরলে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হলে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর আর্থিক প্রতিযোগিতায় বার্সেলোনা আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!