রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ট্রাম্পের পর এবার চীনে যাচ্ছেন পুতিন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

ট্রাম্পের পর এবার চীনে যাচ্ছেন পুতিন

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক পরপরই বেইজিং সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি কেবল একটি নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবেই দেখা হচ্ছে না, বরং বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের নতুন ইঙ্গিত হিসেবেও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য চীন সফরে যেতে পারেন রুশ প্রেসিডেন্ট। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, এক দিনের এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন তিনি। যদিও সফরের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবু উভয় দেশের কূটনৈতিক মহলে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের পরপরই পুতিনের চীন যাত্রা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনীতি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময় এই সফর নতুন বার্তা দিতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, রাশিয়া ও চীনের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন দিনের সরকারি সফরে চীন যান। দীর্ঘ বিরতির পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সফর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, তাইওয়ান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই সফর শেষ হওয়ার পরপরই পুতিনের সম্ভাব্য বেইজিং সফর নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

রাশিয়ার সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এই সফর আগে থেকেই পরিকল্পনায় ছিল এবং এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সফরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও দৃঢ় হয়েছে এবং দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে দুই দেশ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। উপযুক্ত সময়ে সফরের বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পুতিনের এই সফর সফল হলে চীন একটি বিরল কূটনৈতিক অবস্থান অর্জন করবে। কারণ, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর শীর্ষ নেতাদের আতিথেয়তা দেওয়ার নজির তৈরি হতে যাচ্ছে বেইজিংয়ের। এতে বৈশ্বিক কূটনীতিতে চীনের প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বরাজনীতিতে চীনকে ঘিরে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, বাণিজ্যিক চাপ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বেইজিংয়ের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা চীনের কূটনৈতিক সক্ষমতার বড় পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এদিকে রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি খাত, প্রতিরক্ষা সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশ প্রায় একই অবস্থানে থেকেছে। ফলে পুতিন ও শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ব কূটনীতির বর্তমান বাস্তবতায় পুতিনের এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়, বরং শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দৃষ্টি বেইজিংয়ের দিকেই।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!