প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। নির্দিষ্ট সময়ে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জানিয়েছেন তিনি। ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
দেশটির মন্ত্রিসভার এক সদস্যের বরাতে বলা হয়েছে, স্টারমার পদ ছাড়তে প্রস্তুত থাকলেও তা করবেন নিজের শর্তে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি আর দীর্ঘায়িত করা সম্ভব নয়—এটা তিনি উপলব্ধি করেছেন। তাই মর্যাদা বজায় রেখে নিজের পছন্দমতো সময়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চান তিনি। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকার বর্তমানে গভীর সংকটে পড়েছে। পিটার মেন্ডেলসনকে ঘিরে বিতর্ক এবং শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনে দলের ভরাডুবি—সব মিলিয়ে স্টারমারের ওপর চাপ বাড়ছে। তার পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে।
এদিকে, সর্বশেষ ধাক্কা এসেছে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগ থেকে। তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। একই সঙ্গে স্টারমারের বিদায়ের সময় নির্ধারণের আহ্বানও জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক এই অস্থিরতার মধ্যেই স্টারমারের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। তাকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। অনেকেই তার বর্তমান অবস্থার সঙ্গে লিজ ট্রাসের সংক্ষিপ্ত মেয়াদের তুলনা করছেন।
নিজ দলের ভেতরেও তার নেতৃত্ব নিয়ে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। অনেক লেবার এমপির আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দলের ক্ষমতায় ফেরা কঠিন হয়ে পড়বে। এমনকি দেশটি নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী দলের দিকে ঝুঁকতে পারে বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।



