রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চীনে চা-বৈঠকে পুতিন ও শি জিনপিং

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ১১:১৬ এএম

চীনে চা-বৈঠকে পুতিন ও শি জিনপিং

ছবি: সংগৃহীত

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আগমনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরের পরপরই পুতিনের এই সফর বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং পৌঁছান রুশ প্রেসিডেন্ট। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে লাল গালিচা সংবর্ধনা, পতাকা হাতে শুভেচ্ছা এবং আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মাধ্যমে তাকে গ্রহণ করা হয়।

সফরের মূল আকর্ষণ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বুধবার অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল ও নজরদারি বেড়েছে। বিশেষ করে দুই নেতার অনানুষ্ঠানিক আলোচনা এবং চায়ের আসরে সম্ভাব্য বৈঠককে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক একটি নতুন ভূরাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। ট্রাম্পের সফরের পরপরই পুতিনের বেইজিং সফর বিশ্ব শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও অনেকে মনে করছেন।

পুতিন ও শি জিনপিং দীর্ঘদিন ধরেই একে অপরকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন। গত বছরও দুই নেতার অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে সাক্ষাৎ এবং একসঙ্গে চা পান করার দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের কূটনৈতিক রীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি নেতাদের সম্মানে অনানুষ্ঠানিক চা-আড্ডার আয়োজন একটি প্রচলিত প্রথা। কূটনৈতিক মহল বলছে, এই ধরনের পরিবেশে আলোচনার গভীরতা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া অর্থনৈতিক চাপে পড়লেও চীন এখন তার অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও কিছু অর্থনৈতিক ওঠানামাও দেখা গেছে।

এবারের সফরে প্রায় কয়েক ডজন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশের কথাও শোনা যাচ্ছে, যেখানে বহুমেরুভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো নিয়ে আলোচনা থাকতে পারে।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে চীনে গ্যাস সরবরাহ সম্প্রসারণের একটি বড় প্রকল্প নিয়েও অগ্রগতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে চীন কৌশলগতভাবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—দুই পরাশক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে বেইজিং।

অন্যদিকে রাশিয়ার জন্যও চীন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগী হয়ে উঠেছে। পশ্চিমা চাপ মোকাবিলায় এই সম্পর্ক মস্কোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে পুতিন–শি বৈঠককে শুধু একটি কূটনৈতিক সাক্ষাৎ নয়, বরং বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!