প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের আড়াইশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সরাসরি ফোনালাপে অংশ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসায় ভাসিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই আলোচনায় তিনি মোদিকে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানটি দিল্লিতে আয়োজিত হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বিশাল পর্দায় সরাসরি ফোনালাপ সম্প্রচার করা হয়, যেখানে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং তাকে দক্ষ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারে এবং প্রয়োজন হলে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের বিষয়টি।
তিনি আরও বলেন, ভারত যদি কোনো সহায়তা চায়, তবে তাদের জানা আছে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র সবসময় পাশে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং ভারত যা প্রয়োজন মনে করবে, তা পূরণে সহায়তা করা হবে।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিজের দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিভিন্ন নীতিগত সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে তিনি তাদের দক্ষতার কথা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধি জানান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কাঠামো চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তাদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। উভয় পক্ষই এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের মন্তব্য ও কূটনৈতিক বার্তা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়লে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে দিল্লির এই অনুষ্ঠানে দেওয়া ট্রাম্পের বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।



