প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের পর জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম প্রথমে ৩ ডলারে নেমে আসতে পারে এবং পরে তা ২ ডলারের নিচেও চলে যেতে পারে।
সোমবার দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প তেলের সম্ভাব্য মূল্যপতনের বিষয়ে নিজের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত ও বড় মাত্রায় কমবে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই পরিবর্তন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান হতে পারে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। তার বক্তব্যে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনার সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের পরিণতিকে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এমন আশাবাদী বক্তব্যের বিপরীত চিত্রই দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৩১ ডলারে উঠে যায়, যা ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
গত কয়েক দিনের বাজার হিসাবেও তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। পাঁচ দিনের ব্যবধানে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৯ শতাংশ এবং এক মাসে প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা এবং তেল পরিবহনে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কাকে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ওই পথে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের চাপ পড়তে পারে। এর ফলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কাও করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশ নিজেদের মজুত থেকে জ্বালানি ব্যবহার করছে, অন্যদিকে সমুদ্রপথে পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ফলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে তেলের দাম কমার পরিবর্তে আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য তাই মূলত ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পূর্বাভাস। যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া এবং বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল হলে দাম কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কখন এবং কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে সংঘাতের পরিণতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতির ওপর।



