প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন নৌযানে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখা। তাদের দাবি, হামলার মাধ্যমে নৌযানটির কথিত শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নৌযানটি দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করতে সক্ষম। এতে ক্যামেরা, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন ধরনের সংবেদক ব্যবস্থা রয়েছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণ, নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত মিটার দীর্ঘ নৌযানটির গায়ে ৫৮৩৮ নম্বর লেখা ছিল। ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থানকালে এটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। নৌযানটি ওই এলাকায় কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে। সেখানে যেকোনো শত্রুতামূলক তৎপরতা দেখা গেলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এর আগে এ ধরনের চালকবিহীন নৌযান নজরদারি ও সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করেছে। বর্তমানে এমন একটি ইউনিট ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছাকাছি এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছিল বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক পরিস্থিতি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছিল, ইরানের ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর হওয়ার পর বিধিনিষেধ মেনে চলা নিশ্চিত করতে ৯৬টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই এলাকায় সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
ইরানের সাম্প্রতিক দাবি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ও পারস্পরিক হুঁশিয়ারি অব্যাহত রয়েছে। চালকবিহীন নৌযানে হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



