রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাব ইরানের, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০২:৩২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাব ইরানের, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন এলাকায় ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযান দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।

সোমবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, জর্ডানের কিং হোসেন ও আল-আজরাক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তাদের দাবি, হামলায় ঘাঁটি দুটির কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থানগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরান।

তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জর্ডানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুই মার্কিন ঘাঁটিতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ওই স্থাপনাগুলো ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন স্থাপন এবং রকেট হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সম্ভাব্য সেই হুমকি ঠেকাতেই নির্দিষ্ট দুটি স্থাপনায় হামলা চালানো হয় বলে ওয়াশিংটনের দাবি।

ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য মার্কিন হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তবে নিহত ও আহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি। হামলার পরই তেহরান পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।

জর্ডানে ইরানের হামলার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকের পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তুলনামূলকভাবে কমে এসেছিল। লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর নতুন করে পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ঘটনা সেই উত্তেজনাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এই জলপথে সামরিক সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানো হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে লারাক দ্বীপে হামলাকে সীমিত ও নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ফলে লারাক দ্বীপে হামলার পর জর্ডানে পাল্টা হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই পাল্টাপাল্টি হামলা আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নেয় কি না।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!