রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট

ছবি: সংগৃহীত

১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার তিনি নয়াদিল্লিতে পৌঁছালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে স্বাগত জানানো হয়। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নিচ্ছেন।

ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে সম্মেলনে আলোচনা হতে পারে। ইরানও ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য হিসেবে এবারের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।

ভারতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে পেজেশকিয়ান ব্রিকসের সম্ভাবনা ও ভূমিকা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তার মতে, একতরফা নীতির মোকাবিলা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই জোটের গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। তিনি মনে করেন, পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করা গেলে সদস্য দেশগুলোর জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সফরকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট সম্মেলনের মূল অধিবেশনে অংশ নেবেন এবং বক্তব্য দেবেন। পাশাপাশি ব্রিকসের অর্থনৈতিক বিষয়ক বৈঠকেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো তৈরি এবং বহুপাক্ষিকতার গুরুত্ব নিয়ে নেতাদের বিশেষ বৈঠকেও তিনি অংশ নেবেন।

এ ছাড়া ভারতসহ কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে পেজেশকিয়ানের। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। গত ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পেজেশকিয়ানের বৈঠক হয়েছিল। তখন দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

এবারের ব্রিকস সম্মেলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সংগঠনটির সম্প্রসারিত কাঠামো। বর্তমানে ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১১। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরব এ জোটের সদস্য। পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশ অংশীদার রাষ্ট্র হিসেবে সম্মেলনে যুক্ত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে এবারের সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে। ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিত্ব ব্রিকসের আলোচনায় আঞ্চলিক সংকটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বহুপাক্ষিকতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাণিজ্য, জ্বালানি, পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই দেশের স্বার্থ রয়েছে। ফলে পেজেশকিয়ানের এবারের সফর শুধু ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; নয়াদিল্লির সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিকসের সম্প্রসারণের পর জোটটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। এবারের সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা কীভাবে আরও কার্যকর করা যায় এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় জোটটির ভূমিকা কীভাবে বাড়ানো যায়, সেদিকেই থাকবে মূল নজর। ইরানের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!