রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মৃত্যুদণ্ড

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মৃত্যুদণ্ড

সংগৃহীত

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি ফৌজদারি আদালত। একই মামলায় তার ভাই মাহের আল আসাদ এবং দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবকেও একই সাজা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দামেস্কের একটি ফৌজদারি আদালতে বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে শিশু ও বেসামরিক নাগরিকসহ একাধিক ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পাশাপাশি নির্যাতন, বেআইনিভাবে আটক এবং মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়।

মামলায় আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। তার বিরুদ্ধে দারা অঞ্চলে সরকারবিরোধী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে অস্ত্র ব্যবহারে অংশ নেওয়া, মানুষ হত্যা, নির্যাতন ও নির্বিচারে আটকের পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের ওপর সংগঠিতভাবে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

আদালতে নাজিবের বিচার তার উপস্থিতিতে সম্পন্ন হলেও বাশার ও মাহের আল আসাদের বিচার হয়েছে তাদের অনুপস্থিতিতে। রায় ঘোষণার পাশাপাশি আদালত তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রেপ্তারি কার্যক্রম চালানোর নির্দেশও দিয়েছে।

আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ তদন্ত এবং প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলার অভিযোগগুলোর পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০১১ সালে দারা শহর থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে আতেফ নাজিবের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসে।

দীর্ঘ ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর ২০২৪ সালে বাশার আল আসাদ সরকারের পতন ঘটে। আহমাদ আল শারার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী যোদ্ধাদের দ্রুত অভিযানের মুখে মাত্র ১১ দিনের মধ্যে দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ হারায় আসাদ সরকার। এরপর বাশার আল আসাদ সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান।

তার শাসনামলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা ছিল। সর্বশেষ আদালতের এই রায় সিরিয়ার সাবেক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!