রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১৮ মাসের আলোচনার পর সিরিয়া-রাশিয়ার সমঝোতা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

১৮ মাসের আলোচনার পর সিরিয়া-রাশিয়ার সমঝোতা

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৮ মাসের আলোচনার পর সিরিয়ায় থাকা রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে সিরিয়া ও রাশিয়া। নতুন এই সমঝোতার আওতায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনার ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সমঝোতা অনুযায়ী, হমেইমিম বিমানঘাঁটি এবং তারতুস বন্দরের বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ধীরে ধীরে সিরিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হবে। এসব স্থাপনা পর্যায়ক্রমে সিরিয়ার বেসামরিক প্রশাসনের আওতায় নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারতুস বন্দরে আগে রাশিয়ার ব্যবস্থাপনায় থাকা কিছু বাণিজ্যিক স্থাপনার নিয়ন্ত্রণও সিরিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অন্যদিকে, সামরিক ব্যবহারের আওতায় থাকা স্থাপনাগুলোকে যৌথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় উভয় দেশের স্বার্থ ও প্রয়োজন বিবেচনায় রাখা হবে। এই পরিবর্তন কার্যকর করার পুরো প্রক্রিয়া আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির ক্ষেত্রে তারতুসের নৌঘাঁটি এবং হমেইমিম বিমানঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে রাশিয়ার এসব স্থাপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

তারতুস বন্দরের বাণিজ্যিক অংশ নিয়েও নতুন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাশিয়ার ব্যবস্থাপনায় থাকা চতুর্থ জেটি, সংশ্লিষ্ট গুদাম ও অন্যান্য অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ সিরিয়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে সেখানে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় সিরিয়ার বন্দর ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

দুই দেশের এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর দেশটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতার একটি নতুন কাঠামোও তৈরি হবে। দীর্ঘ আলোচনার পর হওয়া এই সমঝোতাকে সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!