প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১০:০৪ এএম
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ আগামী শীতকাল পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই শীর্ষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ওই বৈঠক ছিল রুদ্ধদ্বার। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলেনস্কি জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই ইউক্রেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আরও একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তবে কিয়েভের বৈঠক থেকে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরুর পর এই প্রথম ট্রাম্পের দুই দূত কিয়েভ সফর করলেন। এর আগে শনিবার তাঁরা রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ফলে মস্কো ও কিয়েভে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
রোববারের আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্টিভ উইটকফ। তাঁর ভাষ্য, কিয়েভের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে এবং তিনি আলোচনার ফলাফল নিয়ে আশাবাদী। তাঁর মতে, যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে মস্কোয় রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে জেলেনস্কি যুদ্ধের সম্ভাব্য দীর্ঘায়িত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনে ইউক্রেনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, সংঘাত যদি শীতকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতে আরও সহায়তার প্রয়োজন হবে। শীত মৌসুমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইউক্রেনকে বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হতে পারে বলেও তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জেলেনস্কি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তাঁর মনে হচ্ছে যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধের অবসান এবং একটি ন্যায়সংগত শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, এমন কোনো শান্তি চুক্তি হওয়া উচিত নয়, যার সুযোগ নিয়ে রাশিয়া ভবিষ্যতে আবার ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাতে পারে।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মস্কো ও কিয়েভ সফর এবং ইউক্রেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য পরবর্তী বৈঠক সেই প্রচেষ্টারই অংশ। তবে যুদ্ধ বন্ধে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলেই পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধে উভয় পক্ষের ওপর সামরিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শীতকাল পর্যন্ত সংঘাত চলার আশঙ্কা ইউক্রেনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।



