রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে কিয়েভে ট্রাম্পের দূতরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে কিয়েভে ট্রাম্পের দূতরা

ফাইল ছবি

দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধরত দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিয়েভ সফর করছেন।

শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে শনিবার মস্কো সফর করার পর রোববার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের। দুই দেশের অবস্থান কাছাকাছি আনা এবং যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করাই তাদের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য বলে জানা গেছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার বিশেষ দূতরা যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উইটকফ ও কুশনার দুজনই দক্ষ আলোচক এবং তারা এর আগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। এবারও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা যাচাই করতেই তাদের পাঠানো হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইউক্রেনকে তার নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার বিষয় রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প। তিনি শুধু জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে প্রস্তাবটির বিস্তারিত বিষয় এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

অন্যদিকে, শান্তি আলোচনার বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রোববার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দূতদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। তার আগে মস্কো সফরের মাধ্যমে রুশ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন দূতরা কিয়েভে অবস্থানকালে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলেনস্কি একই ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা রাশিয়ার কাছ থেকেও প্রত্যাশা করেছেন। তার মতে, শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সফল করতে আলোচনায় অংশ নেওয়া সব পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে হলে প্রথমে মস্কো ও কিয়েভকে নিজেদের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার উদ্যোগের পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউক্রেনের সরাসরি অবস্থানও শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। চার বছরের কাছাকাছি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ আরও গভীর হয়েছে।

বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বিভিন্ন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দখলকৃত অঞ্চল, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, ভবিষ্যৎ সীমান্ত এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্ত—এসব বিষয়ই সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগে আলোচনার একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি হলেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। বিশেষ করে ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য সহজে দূর হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

তবে মস্কো ও কিয়েভে ধারাবাহিক আলোচনার উদ্যোগকে যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার কোনো বাস্তব ভিত্তি তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!