প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের প্রতি মস্কোর সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাশিয়াকে কেউ দুর্বল করে ফেলতে বা দেশটিকে গ্রাস করার চেষ্টা করলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন পুতিন। ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত, রাশিয়ার নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনাসহ নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে তার বক্তব্যে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে পুতিন জানান, রাশিয়ার ওপর সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইউক্রেনের জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ইউক্রেনের বিভিন্ন হামলায় রাশিয়ার জাহাজ ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশটির অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার পাল্টা অভিযানে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কৃষ্ণসাগরসংলগ্ন বন্দরগুলোও লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এর ফলে ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক অভিযানের কারণে ইউক্রেনের অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও পুতিন পাল্টা অভিযোগ করেছেন। তিনি ইউক্রেনের ড্রোন হামলাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তুলনা করে রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য এসব হামলাকে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন।
ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ইরানের বিষয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। বিশকেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির জনগণের দৃঢ়তা ও সাহসের প্রতি রাশিয়ার সমর্থন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনীয় সময়ে তেহরানকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে পুতিনের এই বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মস্কো দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও সেই অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেননি রুশ প্রেসিডেন্ট।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও বক্তব্য দেন পুতিন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে জানান। তার বক্তব্যে বোঝা যায়, আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানও তুলে ধরেছেন। তার দাবি, ইউক্রেনই আবার রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং ব্যক্তিগত বৈঠকের অনুরোধ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশিয়ার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পুতিন পশ্চিমা শক্তিকে তীব্র ভাষায় সতর্ক করেন। সোভিয়েত আমলে পশ্চিমা দেশগুলোকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সঙ্গে তুলনা করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কেউ যদি রাশিয়াকে খাদ্যশৃঙ্খলের নিচের দিকে ঠেলে দিতে বা গ্রাস করতে চায়, তাহলে তাকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
পুতিনের ভাষায়, প্রতিপক্ষের শক্তি ও আগ্রাসনের মাত্রা বাড়লেও রাশিয়া তার জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রেও মস্কোর কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে পুতিনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে একদিকে ইরানের প্রতি রাশিয়ার রাজনৈতিক ও কৌশলগত সমর্থন অব্যাহত রাখার বার্তা রয়েছে, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধেও সামরিক চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের দরজা খোলা রাখার কথা বললেও রাশিয়ার নিরাপত্তা ও স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ছাড় না দেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।



