রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে যুক্ত করার প্রস্তাব রাশিয়ার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে যুক্ত করার প্রস্তাব রাশিয়ার

ছবি: সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় ইরানের অংশগ্রহণ স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবেও দেখছে মস্কো।

সোমবার মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় ল্যাভরভ এ অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা গেলে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উপসাগরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থায় ইরানকে যুক্ত করা হলে তা কেবল কোনো একটি দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে না; বরং গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। রাশিয়া বহু বছর ধরেই আরব দেশগুলোর পাশাপাশি ইরানকে নিয়ে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামো গঠনের ধারণা দিয়ে আসছে।

ল্যাভরভের বক্তব্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক নিজেদের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তিতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার নীতি রাখা হয়েছে। তবে চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে।

এই চুক্তির আওতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ল্যাভরভ। তাঁর মতে, মিসর, আলজেরিয়ার মতো দেশগুলোর পাশাপাশি ইরানকেও যদি নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর উদ্যোগ হবে। মস্কো এ ধরনের ব্যবস্থায় নেতৃত্ব নেওয়ার দাবি করছে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

ইরানকে এ কাঠামোয় যুক্ত করার প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও নৌবাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে ইরানকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোয় যুক্ত করার বিষয়টি বাস্তবে কতটা সহজ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত মতপার্থক্য এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। চীন ও রাশিয়ার উদ্যোগে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

রাশিয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে সৌদি আরব, ইরান, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিতে পারে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক আস্থা, নিরাপত্তা স্বার্থ এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর করার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!