প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। মস্কোর ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। আলোচনায় সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগের পাশাপাশি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।
বৈঠক শেষে রুশ পক্ষ থেকে আলোচনাটিকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক কর্মকর্তা ইউরি উশাকভ জানান, ইউক্রেন সংঘাতের পেছনে থাকা মূল কারণগুলো কীভাবে সমাধান করা যায় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আলোচনার সময় ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের প্রতি তার আস্থার কথাও তুলে ধরেন। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মার্কিন প্রতিনিধিদের পরবর্তী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের ইউক্রেন সফর নির্বিঘ্ন করতে কিয়েভ শহর এলাকায় তিন দিনের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। তবে এই সিদ্ধান্ত পুরো ইউক্রেনের জন্য কার্যকর নয়; কেবল কিয়েভকে কেন্দ্র করেই এই সাময়িক বিরতি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষ করে উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সংঘাত শুরুর পর এটি তাদের প্রথম কিয়েভ সফর। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কিয়েভের পক্ষ থেকেও ওই তিন দিন মস্কোতে হামলা না চালানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তবে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও সংঘাতের বাস্তব পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। মার্কিন প্রতিনিধিদের কিয়েভ সফরের আগে রাজধানী কিয়েভ ও বোরিসপিল বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় রুশ বাহিনীর হামলার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দনিপ্রো অঞ্চলের বেসামরিক এলাকাতেও হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে ইউক্রেনের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। দেশটি আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির মুখে রয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার পাশাপাশি আরও অগ্রসর হওয়ার দাবি করে আসছে।
যুদ্ধ বন্ধের পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং আকাশসীমা নিয়ে দুই পক্ষের গভীর মতপার্থক্য। এসব বিষয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি। তবু ওয়াশিংটন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক যোগাযোগকে সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের দীর্ঘ বৈঠক এবং পরবর্তী সময়ে তাদের কিয়েভ সফর দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার নতুন পথ খুলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে হলে ভূখণ্ড ও নিরাপত্তাসহ জটিল কয়েকটি বিষয়ে উভয় পক্ষকে সমঝোতায় আসতে হবে।



