রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সিরিয়াকে সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক তালিকা থেকে সরাল যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

সিরিয়াকে সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক তালিকা থেকে সরাল যুক্তরাষ্ট্র

সংগৃহীত

সিরিয়ার ওপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। দেশটিকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শামের ওপর থাকা কিছু সন্ত্রাসবাদবিষয়ক নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, হায়াত তাহরির আল-শামকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকেও সংগঠনটির নাম সরানো হয়েছে। এর ফলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হলে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সংগঠনটির সঙ্গে নির্দিষ্ট ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে সংগঠনটির সাবেক দুই সদস্য সাদ বিন সাদ মুহাম্মদ শারিয়ান আল-কাবি ও জামাল হুসাইন জাইনিয়াহর বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। তাদের আল-কায়েদা ও হুরাস আল-দিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

সিরিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দেশটির বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের নীতিতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের পথ সহজ করতে বিভিন্ন দেশ ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্রও একই ধারায় সিরিয়ার ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ পর্যায়ক্রমে কমিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তকে সেই পরিবর্তনশীল নীতিরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হায়াত তাহরির আল-শামের সঙ্গে আল-কায়েদার পুরোনো সম্পর্ক থাকায় সংগঠনটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দীর্ঘদিন কঠোর ছিল। কিন্তু সিরিয়ার ক্ষমতার কাঠামোয় পরিবর্তনের পর ওয়াশিংটন সংগঠনটির বিষয়ে আগের অবস্থান পুনর্বিবেচনা শুরু করে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কমানোর ফলে দেশটির আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক যোগাযোগ, পুনর্গঠন কার্যক্রম এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম কিছুটা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল বা নতুন করে আরোপের মাধ্যমে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে যে সিরিয়ার বিষয়ে নীতি পরিবর্তন হলেও নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থান পুরোপুরি পরিত্যাগ করছে না।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!