প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০ বছর বয়সি ব্যারন সাম্প্রতিক সময়ে জনসমাগম ও প্রকাশ্য অনুষ্ঠান থেকে নিজেকে অনেকটাই দূরে রাখছেন বলে পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে। বাবার বিরুদ্ধে একাধিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা এবং পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে আসা বিভিন্ন হুমকির কারণে তার নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা ব্যারন বর্তমানে নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে রাখছেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি খুব একটা বাইরে বের হন না। চলতি গ্রীষ্মের বড় একটি সময় তিনি নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প পরিবারের গলফ ক্লাবে মা মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে কাটিয়েছেন।
ব্যারনের বয়স কম হলেও তার পারিবারিক পরিচয় এবং বাবার রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গত কয়েক বছরে একাধিক হামলার চেষ্টা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।
এর মধ্যেই ব্যারন ও তার মা মেলানিয়া ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একটি ইরানি গোষ্ঠীর নামে প্রচারিত একটি ভিডিওতে ব্যারনকে খুঁজে বের করার আহ্বান জানানো হয় এবং তার মাথার জন্য বিপুল অর্থের পুরস্কার ঘোষণার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের হুমকির উৎস, সত্যতা এবং বাস্তব ঝুঁকি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি।
পরিবারের জন্য নিরাপত্তা উদ্বেগের আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ব্যারনের ঘনিষ্ঠজন চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ব্যারনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কাছের একজনের এমন পরিণতি তার নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যারনের মা মেলানিয়া ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ছেলের ব্যক্তিগত জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক। পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যারনের ব্যক্তিগত অবস্থান, চলাফেরা কিংবা দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। তার নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ট্রাম্প পরিবারের অন্য সদস্যদের তুলনায় ব্যারনের জীবনযাপন সম্পূর্ণ আলাদা। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, এরিক, ইভানকা ও টিফানি ট্রাম্পকে নিয়মিত রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডে দেখা গেলেও ব্যারন সচেতনভাবেই জনসম্মুখ থেকে দূরে থাকেন। তিনি পরিবারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও খুব একটা সক্রিয় নন।
ব্যারনের ব্যক্তিগত পছন্দও তাকে জনজীবন থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হয়। রাজনীতির চেয়ে ব্যবসা ও ব্যক্তিগত আগ্রহের বিষয়েই তার বেশি মনোযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। তরুণ বয়সেই বন্ধুদের সঙ্গে ব্যবসায়িক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল মুদ্রায় বিনিয়োগের সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে। তবে এসব কর্মকাণ্ডেও তিনি প্রকাশ্যে প্রচার বা রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরির চেষ্টা করছেন না।
ব্যারনের শারীরিক গঠনও তাকে সহজেই নজরে নিয়ে আসে। প্রায় ছয় ফুট নয় ইঞ্চি উচ্চতার এই তরুণ যেখানেই উপস্থিত হন, সাধারণ মানুষের দৃষ্টি তার দিকে চলে যায়। এ কারণে নিরাপত্তার বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি একটি বড় ক্রীড়া আয়োজনে বাবা-মায়ের সঙ্গে ব্যারনকে দেখা গেলেও সেখানে তাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে দেখা যায়। পরিবারের সঙ্গে বসে খেলা উপভোগ করলেও তিনি সাধারণ দর্শকদের সরাসরি সংস্পর্শে ছিলেন না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো তরুণ ব্যক্তি নিরাপত্তার ঝুঁকি অনুভব করলে সামাজিক পরিসর সীমিত করে নিজের জন্য নিরাপদ পরিবেশ বেছে নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। সবসময় জনসমক্ষে না থাকা কিংবা একান্তে সময় কাটানোকে সরাসরি মানসিক সমস্যার লক্ষণ হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। ব্যক্তির নিরাপত্তা, পারিবারিক পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত পছন্দ—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই বিষয়টি দেখা প্রয়োজন।
ব্যারনের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য হতে পারে। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে চাইছেন, নাকি নিরাপত্তার কারণে তার চলাফেরা সীমিত করা হয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্প পরিবারের রাজনৈতিক পরিচিতি এবং তাদের ঘিরে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবন যে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।
বর্তমানে ব্যারন ট্রাম্পের জনসমক্ষে উপস্থিতি খুবই সীমিত। পরিবারের পক্ষ থেকেও তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ না করার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ফলে ট্রাম্প পরিবারের সবচেয়ে কম দৃশ্যমান সদস্য হিসেবে ব্যারনের জীবনযাপন নিয়ে মানুষের কৌতূহল থাকলেও তার নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।



