রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ট্রাম্পের আহ্বানে থামল ইরান-ইসরায়েল হামলা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম

ট্রাম্পের আহ্বানে থামল ইরান-ইসরায়েল হামলা

ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলেও আপাতত সরাসরি হামলা থেকে সরে এসেছে ইরান ও ইসরায়েল। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পাল্টাপাল্টি ঘটনার পর দুই দেশই সীমিত সময়ের জন্য সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিশেষ করে লেবাননকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে উভয়পক্ষ।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। ইরানের সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি সংঘর্ষ আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা আপাতত হামলামূলক তৎপরতা সীমিত করেছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও মিত্রদের স্বার্থে প্রয়োজন হলে দ্রুত জবাব দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংঘাত দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। দুই মাস আগে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা হয়েছিল। সেই সমঝোতার পর এটিই ছিল দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টা বিমান অভিযানের কারণে পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চলমান সংকট যেন কূটনৈতিক সমাধানের পথকে বাধাগ্রস্ত না করে। তার এমন বক্তব্যের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে ট্রাম্প জানান, নতুন করে যুদ্ধবিরতির একটি উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলছে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনাও রয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

এর আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইসরায়েল পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিমান হামলা চালায়। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। যদিও আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানায়, তবুও কয়েক দফা হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লেবাননকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়লে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে দুই দেশের সাময়িক পিছু হটা এবং আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এখন কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাখছে বিশ্ববাসী। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!