প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বের প্রভাবশালী অর্থনৈতিক জোটভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত এই বৈঠককে ঘিরে ইতোমধ্যে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ফ্রান্সে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির বাইরে দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠকের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি পরিবহন, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং সামরিক সহযোগিতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পাবে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বিবেচিত এই জলপথে মাইন অপসারণ এবং নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর সহযোগিতা চাইতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এই ইস্যুতে মিত্র দেশগুলোর অবস্থান জানার পাশাপাশি সমন্বিত কৌশল নির্ধারণের চেষ্টা করবেন।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, সম্ভাব্য চুক্তিটি কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমিত হতে পারে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, এই সমঝোতা বাস্তবায়নে ইউরোপে সম্ভাব্য আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।
অন্যদিকে, এক সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় সফরে ইতোমধ্যে ভারত ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সফরের প্রথম গন্তব্য ফ্রান্স, এরপর তিনি স্লোভাকিয়া সফর করবেন। সফর শুরুর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে মোদি বলেন, ভারতের কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ফ্রান্স একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি জানান, চলতি বছরের শুরুতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ভারত সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চপর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময়, জ্বালানি খাত এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় অঞ্চলে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেও এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ফ্রান্স সফর শেষে মোদি স্লোভাকিয়ায় যাবেন। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর এই প্রথম কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী দেশটি সফর করতে যাচ্ছেন। ফলে সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সে মোদি ও ট্রাম্পের বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্কের দিক থেকেই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।



