প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, ব্যক্তিগত নয় বরং রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আবেগঘন সেই ভাষণে স্টারমার বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকেও সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার এই ঘোষণায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় শুরু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া আগামী জুলাই মাসে শুরু হবে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। ততদিন পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করবেন।
গত নির্বাচনে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন দলকে পরাজিত করে লেবার পার্টিকে বড় বিজয় এনে দিয়েছিলেন কিয়ার স্টারমার। সেই সময় তার নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। তবে ক্ষমতায় আসার পর একাধিক নীতি পরিবর্তন, দলীয় অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এবং জনসমর্থনে ভাটার কারণে তার অবস্থান ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলও তার নেতৃত্বের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। দলের ভেতরে অসন্তোষ ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে ওঠে। এসব পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে একাধিক নাম আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই।
স্টারমারের বিদায়ে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।



