প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পর মূল্যবান এই ধাতুটি এক প্রান্তিকে সবচেয়ে বড় দরপতনের মুখোমুখি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কার কারণে সোনার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সর্বশেষ লেনদেনে প্রতি আউন্স সোনার দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও পুরো মাস এবং প্রান্তিক হিসাব করলে বড় ধরনের মূল্যহ্রাস স্পষ্ট হয়েছে। চলতি মাসে সোনার দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা টানা চতুর্থ মাসের মতো নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ সরবরাহভিত্তিক বাজারেও সোনার মূল্য প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সুদের হার বৃদ্ধি পেলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনায় বিনিয়োগের আগ্রহ সাধারণত কমে যায়। ফলে বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ে এবং দাম নিম্নমুখী হয়।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বর্তমানে শক্তিশালী ডলারের প্রভাব, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতির কারণে সোনার বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ আগের তুলনায় কমে গেছে। যদিও অনিশ্চয়তার সময়ে সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবুও উচ্চ সুদের পরিবেশে অনেক বিনিয়োগকারী বিকল্প খাতে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন।
শুধু সোনা নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই ধরনের চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে সামান্য ওঠানামা থাকলেও মাসিক ও প্রান্তিক হিসাবে এগুলোর মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে মূল্যবান ধাতুর বৈশ্বিক বাজারে বর্তমানে এক ধরনের মন্দাভাব বিরাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর এসব ধাতুর দামের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে।



