প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দুর্যোগের ভয়াবহতা এখনও কাটেনি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও প্রতিদিনই বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৩০০ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ এবং প্রায় ১৩ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব বলছে, এখনও প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এই বিপর্যয়ের পর দেশজুড়ে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি বলেছেন, এত বিপুল প্রাণহানি পুরো জাতিকে গভীর শোক ও বেদনার মধ্যে নিমজ্জিত করেছে। জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২৪ জুন উত্তর ভেনেজুয়েলায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন ভবন, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ক্ষতির মুখে পড়ে। বহু আবাসিক ভবন ধসে পড়ায় হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
উদ্ধারকারী দল এখনো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়লেও দেশীয় বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দলও যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি অলৌকিক উদ্ধার অভিযানের পরও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন কার্যক্রম ধীরে ধীরে জীবিত উদ্ধার থেকে মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধার অভিযানে রূপ নিচ্ছে।
এদিকে দুর্যোগের কারণে ভেনেজুয়েলায় মানবিক সংকটও দ্রুত তীব্র হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে আহত মানুষের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট দেখা দিয়েছে। নিরাপদ পানির অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অতিরিক্ত মানুষের ভিড়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, জনসেবা ব্যবস্থা এবং আবাসন পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তাকে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



