রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বকাপ চলাকালেই ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক সালিমকে হত্যা করল ইসরাইলি বাহিনী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

বিশ্বকাপ চলাকালেই ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক সালিমকে হত্যা করল ইসরাইলি বাহিনী

ছবি: সংগৃহীত

একদিকে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বকাপের উত্তেজনায় মেতে উঠেছেন, অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় প্রাণ হারালেন আরেক ফিলিস্তিনি ফুটবলার। ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন গাজার ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন খাদামাত খান ইউনিসের গোলরক্ষক সালিম খাদের আল-আশকার। তার মৃত্যুতে ফিলিস্তিনের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গাজার খান ইউনিস এলাকার আল-কারারা অঞ্চলে সংঘটিত হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ৩২ বছর বয়সী সালিম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি খাদামাত খান ইউনিসের হয়ে গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি আল-আকসা ও আল-মুসাদ্দার নামের দুটি ক্রীড়া দলের হয়েও মাঠে নেমেছিলেন তিনি। ধারাবাহিক নৈপুণ্যের কারণে গাজার ফুটবল অঙ্গনে তিনি ছিলেন সুপরিচিত একটি মুখ।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সালিম ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে এবং সাত বোনের একমাত্র ভাই। কয়েক মাস আগেই তিনি নতুন সংসার শুরু করেছিলেন। পরিবারে নতুন সদস্যের আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। কিন্তু যুদ্ধ সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তার জীবন কেড়ে নিয়েছে।

স্থানীয় ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মাঠে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে সবসময় দৃঢ়তার পরিচয় দিলেও বাস্তব যুদ্ধের নির্মমতার সামনে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি এই গোলরক্ষকের।

গাজায় চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে অসংখ্য ক্রীড়াবিদ প্রাণ হারিয়েছেন। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই পরিস্থিতি ফিলিস্তিনের ক্রীড়া অঙ্গনের জন্য গভীর সংকট সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুধু সাধারণ মানুষের জীবনই নয়, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছাড়া ক্রীড়া ও মানবিক উন্নয়ন টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও তারা মনে করছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!