প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে এখনও লড়াই করছে ভেনেজুয়েলা। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে প্রায় তিন হাজারে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৯৫৪ জনে। একই সঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২৪ জুন অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটিতে। প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং পরবর্তী কম্পনের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। এই জোড়া ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরের উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। সেখানে অসংখ্য বহুতল ভবন ও বসতবাড়ি ধসে পড়েছে। হাজারো পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র, খোলা মাঠ এবং অস্থায়ী শিবিরে দিন কাটাচ্ছে।
দুর্যোগের দশ দিন পার হলেও অনেক পরিবার এখনও তাদের স্বজনদের খুঁজে ফিরছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিত কিংবা মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা কমে আসছে। তবুও চলতি সপ্তাহে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা উদ্ধারকর্মীদের নতুন করে আশাবাদী করেছিল।
তবে এখন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধীরে ধীরে তাদের অভিযান সমাপ্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর প্রথম কয়েক দিন জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। এরপর সময় যত গড়ায়, সেই সম্ভাবনা ততই কমতে থাকে।
দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলা এখনও গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বহু পরিবার এখনো নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দেশি-বিদেশি কর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাদের নিজেদের উদ্যোগেই ধ্বংসস্তূপে স্বজনদের খুঁজতে হয়েছে। যদিও সরকারের দাবি, ভূমিকম্পের পরপরই হাজারো সেনাসদস্য, উদ্ধারকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাকে মাঠে নামানো হয় এবং ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ দ্রুত গতিতে পরিচালিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন করা। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।



