প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১০:০৮ এএম
বাহামাসে ছোট একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দেশটির রাজধানী নাসাউয়ের পশ্চিমে উত্তর অ্যান্ড্রস এলাকার জলভাগে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। দেশটির স্বাধীনতার ৫৩তম বার্ষিকী উদযাপনের মধ্যেই এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোক নেমে এসেছে পুরো দেশে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল বাহামাসে নিবন্ধিত একটি ছোট আকারের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ। বিমানটি নাসাউয়ের লিন্ডেন পিন্ডলিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সান অ্যান্ড্রসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। উড্ডয়নের কিছু সময় পরই এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তর অ্যান্ড্রসের কাছে সাগরে পড়ে যায়।
বাহামিয়ান বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রথমদিকে একজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। পরে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়ায়।
নিহতদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বাহামাসের প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ ব্রেভ ডেভিস ঘটনাটিকে জাতীয় জীবনের জন্য একটি বেদনাদায়ক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা উদযাপনের আনন্দের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা গভীর শোকে পরিণত হয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে।
এদিকে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পাশাপাশি একই দিনে আরেকটি উড়োজাহাজে নিরাপত্তাজনিত সমস্যার ঘটনা সামনে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সরকার একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার উড়োজাহাজ পরিচালনার অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই সংস্থার সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।
জানা গেছে, একই দিনে ওই সংস্থার আরেকটি উড়োজাহাজ নাসাউ থেকে অন্য একটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সময় মাঝ আকাশে প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়ে। পরে পাইলট জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিমানটি আবার নাসাউয়ে ফিরিয়ে আনেন। নিরাপদে অবতরণের পর যাত্রীরা নেমে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
পরপর দুটি ঘটনায় দেশটির বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্তের ফল পাওয়ার পরই পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



