প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বিদেশি পর্যটক এবং দুই জন বিমানকর্মী রয়েছেন। ঐতিহাসিক নিদর্শন পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ছোট যাত্রীবাহী বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় দেশটির পর্যটন খাত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার পেরুর ইকা বিভাগের পিসকো বিমানবন্দর থেকে বিমানটি যাত্রা শুরু করে। যাত্রীদের গন্তব্য ছিল বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ‘নাজকা লাইনস’। তবে আকাশে উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়, ফলে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বিমানে থাকা সব যাত্রী ও বিমানকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা অথবা অন্য কোনো কারণ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নাজকা লাইনস বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। মরুভূমির বিস্তীর্ণ ভূমিতে খোদাই করা বিশালাকার জ্যামিতিক নকশা, প্রাণী ও বিভিন্ন আকৃতির চিত্র দূর থেকে বা আকাশপথ থেকেই সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। এ কারণেই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বড় একটি অংশ বিশেষ বিমানে চড়ে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন করে থাকেন।
পেরুর পর্যটন শিল্পে নাজকা লাইনস, মাচু পিচু এবং কুস্কোর মতো ঐতিহাসিক স্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো পর্যটক এসব স্থাপনা দেখতে সেখানে ভ্রমণ করেন। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনা পর্যটন নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না। একই সঙ্গে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও চলছে।



