প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
ব্রাজিলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক ভিসা–সংক্রান্ত পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ব্রাজিল সরকারের এক সিদ্ধান্তকে ঘিরে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এটি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নয়; বরং কূটনৈতিক নীতির অংশ হিসেবে নেওয়া একটি পারস্পরিক পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি, বিষয়টির সমাধানে তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রাজিল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি। তাদের অভিযোগ, ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সিদ্ধান্তহীনতা দেখিয়েছে।
অন্যদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে কারণ দেখিয়ে ভিসা–সংক্রান্ত ব্যবস্থা নিয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ব্রাজিল সরকারের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বিদেশি প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা থেকেই দুই মার্কিন কর্মকর্তার সফর অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সফরসূচিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বৈঠক এবং নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকায় সরকার সতর্ক অবস্থান নেয়।
এদিকে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কও এই সংকটকে আরও জটিল করেছে। ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য সামনে এলেও দেশটির সর্বোচ্চ নির্বাচনী আদালত এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।



