প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করা ২০২ জন অভিবাসীকে গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল থেকে উদ্ধার করেছে দেশটির উপকূলরক্ষী বাহিনী। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২ জন বাংলাদেশি, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সুদানি এবং কয়েকজন মিসরীয় নাগরিক রয়েছেন। তাদের নিরাপদে উপকূলে এনে পরিচয় যাচাই ও নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, গত দুই দিনে লিবিয়ার উপকূল থেকে ছেড়ে আসা একাধিক নৌযান গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। সমুদ্রপথে নজরদারির সময় একটি নৌযান শনাক্ত হওয়ার পর উপকূলরক্ষী বাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় নৌযানে থাকা ৪০ জনকে নিরাপদে বন্দরে নিয়ে আসা হয়।
এর আগে একই এলাকায় পৌঁছানো আরও দুটি নৌযান থেকে মোট ১১২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। প্রথম নৌযানে থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ৩১ জন ছিলেন সুদানের নাগরিক এবং ২৫ জন বাংলাদেশি। অপর নৌযানে থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি ও ৯ জন মিসরের নাগরিক ছিলেন।
উদ্ধার হওয়া সবাইকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিবন্ধন, পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিট অঞ্চলে অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে পৃথক অভিযানে ১৬ বছর বয়সী এক দক্ষিণ সুদানি কিশোরকে আটক করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, লিবিয়ার তবরুক এলাকা থেকে একটি নৌযানে অভিবাসীদের গ্রিসে নিয়ে আসার কাজে সে যুক্ত ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যাত্রীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপমুখী অভিবাসীদের জন্য ভূমধ্যসাগর এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি পথ। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও উন্নত জীবিকার আশায় বহু মানুষ এই সমুদ্রপথে যাত্রা করছেন। ফলে মানবপাচার রোধ এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।



