প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
ভেনেজুয়েলায় গত জুনে আঘাত হানা ভয়াবহ দুটি ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ক্রমেই আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬ হাজার ৩০১ জনে পৌঁছেছে। সোমবার দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেস নতুন করে প্রাণহানির এই তথ্য জানিয়েছেন।
ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকারীদের তৎপরতায় এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। আহত ও অসুস্থ বিপুলসংখ্যক মানুষকে চিকিৎসা দিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসাবে, এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩৫৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসিক ভবন ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণে ইতোমধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শন শেষে ৩১ হাজার ৩৩৬টি বাড়িকে বসবাসের জন্য নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
তবে বিপুলসংখ্যক বাড়িতে এখনো ঝুঁকি রয়ে গেছে। সরকারি পর্যালোচনায় ১২ হাজার ৪১১টি বাড়িতে বসবাসের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আরও ৯ হাজার ৫৬৭টি বাড়িকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ভবনে বসবাসকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঘরবাড়ি হারানো মানুষের পুনর্বাসনেও সরকারি উদ্যোগ চলছে। এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ২৮৭টি নতুন বাড়ি হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধসে পড়া স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজও অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি হিসাবে, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫২৫ টনের বেশি ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়েছে। মোট জমে থাকা ধ্বংসাবশেষের প্রায় ২৩ দশমিক ২ শতাংশ ইতোমধ্যে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ এখনো বিভিন্ন এলাকায় পড়ে থাকায় উদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। একটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং অন্যটির মাত্রা ৭ দশমিক ৫। পরপর শক্তিশালী কম্পনে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়। বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারান এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে উদ্ধার, চিকিৎসা, ধ্বংসস্তূপ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে।
তবে প্রাণহানির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং আবাসন সংকটও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর নিরাপত্তা যাচাই এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের কয়েক সপ্তাহ পরও দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ফিরতে পারেনি। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব, পুনর্গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে আরও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



