প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পরাজিত করার পর শিগগিরই হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। তার এমন বক্তব্যের পরপরই তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, কোনো ঘোষণা, সামরিক শক্তি কিংবা চাপ প্রয়োগ করে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব নয়।
শুক্রবার নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর প্রণালীটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তবে কীভাবে এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, হরমুজ কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা, যুদ্ধজাহাজ, সরকারি আদেশ কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে দখল করা সম্ভব নয়। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রণালীটির ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের দাবি থেকে সরে আসতে রাজি নয় তেহরান।
চলমান সংঘাতের প্রভাবে এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক হিসাবে শুক্রবার মাত্র কয়েকটি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করত, বর্তমানে সেখানে নৌ চলাচল প্রায় স্থবির অবস্থায় পৌঁছেছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও জ্বালানি এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার কথা বলছে। অন্যদিকে তেহরানও প্রণালীটির ওপর নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে। ফলে হরমুজ এখন শুধু জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ নয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অন্যতম প্রধান কৌশলগত কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগও পুরোপুরি সফল হয়নি। কাতার ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের চেষ্টা চালালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মুখোমুখি অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহনব্যবস্থা ও পণ্যের বাজারে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।



