প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের সানশাইন কোস্টের ৪০ বছর বয়সী কোর্টনি ব্রাউন পেশায় একজন প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত সাপ ধরার কর্মী। বিষধরসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ লোকালয়ে ঢুকে পড়লে সেগুলো উদ্ধার করে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেন তিনি। সাপ ধরার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বছরের পর বছর অভিজ্ঞতা অর্জন করলেও কোর্টনির কাছে সাপ সবচেয়ে ভয়ের বিষয় নয়। একা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অপরিচিত কিছু পুরুষের আচরণকেই তিনি বেশি উদ্বেগের মনে করেন।
দুই সন্তানের মা কোর্টনি প্রায় তিন বছর ধরে এই পেশায় যুক্ত। উষ্ণ আবহাওয়ার সময়ে তার কাজের চাপও বেড়ে যায়। কোনো কোনো দিনে তাকে প্রায় ১০টি পর্যন্ত সাপ উদ্ধারের ডাক সামলাতে হয়। বাড়িঘর, উঠান কিংবা আশপাশের স্থানে সাপ দেখা দিলে আতঙ্কিত বাসিন্দারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
কোর্টনির সাপের প্রতি আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ছোটবেলা থেকেই প্রাণীদের প্রতি তার আলাদা আকর্ষণ ছিল। অবসর সময়ে সাপের বিভিন্ন প্রজাতি সম্পর্কে জানা এবং তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসতেন তিনি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও সেই কর্মজীবনে তৃপ্তি পাননি।
দুই সন্তান কিছুটা বড় হওয়ার পর নতুনভাবে নিজের পেশাজীবন সাজানোর সুযোগ পান কোর্টনি। তখন শুধু উপার্জনের চিন্তা না করে নিজের পছন্দের কাজকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রাথমিক চিকিৎসার শিক্ষা এবং বিভিন্ন প্রজাতির সাপ শনাক্ত করার দক্ষতা অর্জনের পর আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিয়ে সাপ উদ্ধারের কাজ শুরু করেন।
তার কাছে সবচেয়ে বেশি আসা ডাকগুলোর মধ্যে রয়েছে কার্পেট পাইথন উদ্ধারের ঘটনা। বড় আকারের হওয়ায় এসব সাপ ঘরে ঢুকলে মানুষ ভয় পেয়ে যায়। তবে এগুলো বিষধর নয় এবং সাধারণত মানুষের ওপর আক্রমণ করে না। বিপরীতে ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক ও রেড-বেলিড ব্ল্যাক স্নেকের মতো অত্যন্ত বিষধর প্রজাতি ধরতে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হয়।
সাপ উদ্ধারের সময় কোর্টনি বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে হুকের সাহায্যে সাপকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং পরিস্থিতি বুঝে নিরাপদ ব্যাগে রাখেন। পুরো প্রক্রিয়ায় সাপটির আচরণ ও নড়াচড়া খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। কারণ সামান্য ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
তবে সাপ নিয়ে কাজ করলেও প্রাণীটির প্রতি কোর্টনির দৃষ্টিভঙ্গি আতঙ্কের নয়। তার মতে, অধিকাংশ সাপ অকারণে মানুষকে আক্রমণ করে না। নিজেদের বিপদে পড়েছে মনে করলেই সাধারণত আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। তাই সাপ দেখলেই হত্যা না করে প্রশিক্ষিত ব্যক্তির মাধ্যমে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে তিনি।
কোর্টনির কাজের আরেকটি বড় দিক হলো মানুষের ভয় কমানো। তিনি মনে করেন, সাপ সম্পর্কে ভুল ধারণা ও অযথা আতঙ্কের কারণে অনেক সময় নিরীহ প্রাণীও মারা পড়ে। অথচ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সাপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তবে একা অপরিচিত বাড়িতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন কোর্টনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মানুষ সহযোগিতা করলেও কিছু ক্ষেত্রে অপরিচিত পুরুষের অস্বাভাবিক আচরণ তাকে সতর্ক করে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের কারণেও তাকে নানা ধরনের বিরূপ মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ পেশা বেছে নিয়েও কোর্টনি নিজের কাজ নিয়ে গর্বিত। তার কাছে সাপ ধরা শুধু জীবিকা নয়, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণেরও একটি দায়িত্ব। বিষধর সাপের সামনে দাঁড়িয়ে যে নারী নির্বিকার থাকেন, সেই কোর্টনির কাছে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শিক্ষা—সাপকে ভয় পাওয়ার আগে তার আচরণ বোঝা জরুরি, আর নিজের নিরাপত্তাকে কখনোই অবহেলা করা যাবে না।



