রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেমিফাইনাল থেকে বিদায় সাব্বির-শামিমদের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেমিফাইনাল থেকে বিদায় সাব্বির-শামিমদের

সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় চলমান টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত লড়াই করেও ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশ হাই-পারফরম্যান্স দল। প্রথম সেমিফাইনালে ভিক্টোরিয়া একাডেমির কাছে মাত্র এক উইকেটে হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে ইরফান শুক্কুরের নেতৃত্বাধীন দল। ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে না পারাই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরাজয়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

রোববার (৩০ আগস্ট) ডারউইনের গার্ডেনস ওভালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকায় বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি হয়নি। ১৭ দশমিক ১ ওভার ব্যাট করে মাত্র ১০১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন জিসান আলম। তিনি ৩০ রান করেন। আরিফুল ইসলাম করেন ১৯ রান। তবে দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার সাব্বির রহমান, শামীম হোসেনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন প্রত্যাশিত অবদান রাখতে পারেননি। অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরও ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভিক্টোরিয়ার হয়ে উইল সাদারল্যান্ড বল হাতে চারটি উইকেট তুলে নেন।

মাত্র ১০২ রানের লক্ষ্য পেয়ে ভিক্টোরিয়া একপর্যায়ে সহজেই ম্যাচটি জিতে যাবে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তাদের সেই পথ সহজ হয়নি। শুরুতেই উইকেট হারানোর পর নিয়মিত বিরতিতে আরও কয়েকজন ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন।

ভিক্টোরিয়ার হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ক্যাম্পবেল ক্যালাওয়ে। তিনি দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন। তবে বাংলাদেশের বোলাররা শেষ পর্যন্ত ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।

বিশেষ করে মোহাম্মদ রুবেলের স্পিনে চাপে পড়ে যায় ভিক্টোরিয়া। তিনি তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেন। শামীম হোসেনও দুটি উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে চাপ বাড়ান। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, মাত্র ১০১ রান করেও বাংলাদেশ ম্যাচটি নিজেদের করে নিতে পারে।

তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেয়নি। ভিক্টোরিয়ার ব্যাটাররা ধৈর্য ধরে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। ইনিংসের শেষদিকে প্রয়োজনীয় রান তুলে নিয়ে এক উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে তারা। ১৯ দশমিক ৪ ওভারে ভিক্টোরিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৫ রান। ফলে বাংলাদেশকে এক উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় দলটি।

ম্যাচের ফলাফল বাংলাদেশের জন্য হতাশাজনক হলেও পুরো প্রতিযোগিতায় দলটির পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। সেমিফাইনালে ওঠার আগে বাংলাদেশ এইচপি ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই জয় পেয়েছিল। লিগ পর্বে তাদের একমাত্র পরাজয় ছিল অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমির বিপক্ষে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে ব্যাটিং ইউনিটের ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত দলকে বিপদে ফেলে। টি-টোয়েন্টির মতো দ্রুতগতির ক্রিকেটে ১০১ রানের সংগ্রহ প্রতিপক্ষের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ লক্ষ্য হলেও বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টেনে নিতে সক্ষম হন।

একপর্যায়ে ভিক্টোরিয়ার নয়টি উইকেট পড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে জয়ের আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ উইকেট জুটিতে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় ভিক্টোরিয়া। মাত্র এক উইকেটের ব্যবধানে পাওয়া এই জয় বাংলাদেশের সেমিফাইনাল বিদায়ের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফলে টুর্নামেন্টে ভালো শুরু ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরও শিরোপার লড়াইয়ে আর থাকা হলো না বাংলাদেশের হাই-পারফরম্যান্স দলের। ব্যাটিংয়ে আরও দায়িত্বশীলতা দেখাতে পারলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত—সেমিফাইনালের এই ম্যাচে সেটিই সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হয়ে থাকল।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!