প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
পর্তুগালে জনসমক্ষে এমন পোশাক পরার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা মুখের পরিচয় শনাক্তে বাধা দেয়। নতুন আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ঢেকে রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আইনটি বোরকা ও নিকাব পরিহিত নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়ায় দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নতুন বিধানের আওতায় জনসাধারণের চলাচলের স্থান, সাধারণের জন্য উন্মুক্ত জায়গা, সরকারি সেবা গ্রহণের স্থান এবং বিভিন্ন জনসমাগমে মুখ আড়াল করে পরিচয় গোপন করার মতো পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স বা বংশপরিচয়ের কারণে কাউকে জোর করে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইন ভাঙার ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ অপরাধের ধরন ও উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করবে। অসতর্কতা বা অবহেলার ক্ষেত্রে ১৫০ থেকে ৭৫০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আর ইচ্ছাকৃতভাবে আইন লঙ্ঘন করলে জরিমানা ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। আইনটির বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব থাকবে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর।
তবে সব পরিস্থিতিতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, পেশাগত কাজ, শিল্প বা বিনোদনমূলক কার্যক্রম, প্রচণ্ড আবহাওয়া কিংবা নিরাপত্তাজনিত কারণে মুখ ঢাকার প্রয়োজন হলে ছাড় দেওয়ার বিধান রয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়েও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। বিমানযাত্রা এবং কূটনৈতিক ও কনস্যুলার স্থাপনাও এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
পর্তুগালের আইনপ্রণেতাদের একটি অংশের যুক্তি, জনসমক্ষে মানুষের পরিচয় সহজে শনাক্ত করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এ ধরনের বিধান প্রয়োজন। তাদের মতে, মুখ সম্পূর্ণ আড়াল থাকলে পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধিতাকারীদের আশঙ্কা, এই নিষেধাজ্ঞা ব্যক্তির পোশাক নির্বাচনের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অনুশীলনের অধিকারে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মুসলিম নারীদের বোরকা বা নিকাব পরার বিষয়টি সামনে আসায় বিতর্কটি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
পর্তুগালের এই পদক্ষেপ ইউরোপে জননিরাপত্তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার পর এর প্রয়োগ কীভাবে হয় এবং ধর্মীয় পোশাক পরিহিত নারীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে। আইনটি সংসদে অনুমোদনের পর প্রকাশের ৩০ দিন পর কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।



