রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে ইমরান খান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে ইমরান খান

ফাইল ছবি

কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য রাজধানী ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অসুস্থতার অভিযোগ এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে তাকে আদিয়ালা কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ইমরান খানের দল জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আদালত ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি ইমরান খানকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার কথাও রয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে তার নিয়মিত সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাতে তার এক বোন কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।

ইমরান খানের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের দাবি, তিনি চোখের সমস্যা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এবং কারাগারে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এক আইনজীবী এর আগে দাবি করেছিলেন, চিকিৎসার অভাবে ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে পাকিস্তান সরকার সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ইমরানের চিকিৎসায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞকে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের আইনগত ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও আদালত উল্লেখ করেছেন।

ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার সমর্থকদের সেখানে ভিড় না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বাইরে কোনো সংবাদ সম্মেলন না করার বিষয়েও তার দলকে সতর্ক করা হয়েছে।

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ইমরান খান। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে কারাগারে পাঠানোর পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি। তার কারাবন্দিত্বকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে বিভিন্ন সময়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিক্ষোভও হয়েছে।

বর্তমানে কারাগারে থাকলেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খান এখনো অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচিত। তার চিকিৎসা ও আদালতের নির্দেশ ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!