প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি প্রণালিটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের মতো করে দেখার অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরান চুক্তিতে আগ্রহ দেখালেও এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত নয়।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তেল ও গ্যাসবাহী বিপুলসংখ্যক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে। ফলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ, মূল্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এর মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণার মতো পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে ওমান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফোনে কথা বলেছেন। এতে উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি পথ খোলা থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি হামলার খবর পাওয়া গেছে। নাবাতিয়েহ প্রদেশের বিন্ত জবেইল জেলার কয়েকটি এলাকা, দেইর সিরিয়ান শহরের আশপাশ এবং টায়ার জেলার আল-মানসুরি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কোনো ধরনের বড় সংকট তৈরি হলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।



