প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া যোগ্য হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া যোগ্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন যাচাইসহ পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা।
অমিত শাহ বলেন, যোগ্য শরণার্থীদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া যাতে দীর্ঘসূত্রতায় না পড়ে, সে জন্য প্রশাসনিক পর্যায়েও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কাজ দ্রুত করতে পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আবেদনকারীদের কাগজপত্র যাচাই, আবেদন পর্যালোচনা এবং নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া আগের তুলনায় দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ সালে সংসদে পাস হয়। পরে ২০২৪ সালে আইনটির বিধিমালা কার্যকর করা হয়। এই আইনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে যাওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানদের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করা থাকতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নির্ধারিত অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।
শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে অমিত শাহ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যোগ্য অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার ঘোষণাকে নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।



