রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিদেশের কারাগারে বন্দি প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম

বিদেশের কারাগারে বন্দি প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি

ফাইল ছবি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। এসব নাগরিককে আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কারাদণ্ড বা সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিকভাবে কাজ করছে সরকার। বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোর কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের কারাগার ও আটককেন্দ্রে এসব বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। তবে কোনো দেশের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ওই দেশের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার অধীন থাকেন। ফলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান রেখেই বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হয়।

তিনি জানান, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে আটক হওয়ার খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি দূতাবাস বা মিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখভাল করে। কর্মকর্তারা কারাগার বা আটককেন্দ্রে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তার পরিচয়, আটকের কারণ ও মামলাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে আইনগত অধিকার ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পাওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

আটক কোনো বাংলাদেশির নিজস্ব অর্থে আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য না থাকলে আদালতের মাধ্যমে আইনজীবী পাওয়ার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট মিশন উদ্যোগ নেয়। আবার পরিবারের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের প্রয়োজন হলে দূতাবাস বা মিশনের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মুক্তির জন্য জরিমানা পরিশোধের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি কারাদণ্ড বা আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজন হলে বিমানভাড়ার ব্যবস্থাও করা হয়। কোনো পরিবার সেই ব্যয় বহন করতে না পারলে সরকারি অর্থে প্রত্যাবাসন ব্যয় বহনের ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে।

কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ অনুমতিপত্র দ্রুত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট জায়গায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেও সহযোগিতা করে বাংলাদেশি মিশনগুলো।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের সহায়তা দেওয়ার এই কার্যক্রম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হচ্ছে।

কিছু ক্ষেত্রে স্বাগতিক দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণ ক্ষমা বা বিশেষ ছাড়ের আবেদনও করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি মিয়ানমারে আটক তিন বাংলাদেশি জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতেও এ ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, সহায়তা প্রদান এবং দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করবে। এর মাধ্যমে বিদেশে আটক নাগরিকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া এবং তাদের প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদেশে কর্মসংস্থান ও বিভিন্ন কারণে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের একটি অংশ নানা আইনি জটিলতায় পড়ে কারাগারে বা আটককেন্দ্রে যেতে বাধ্য হন। তাদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে সরকার।
 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!