রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আসামি না হয়েও ২০ দিন কারাগারে, অবশেষে জামিন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

আসামি না হয়েও ২০ দিন কারাগারে, অবশেষে জামিন

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আর্থিক প্রতারণার একটি মামলায় প্রকৃত আসামি না হয়েও প্রায় ২০ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে জলিল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তিকে। নাম, বাবার নাম ও ঠিকানার মিল থাকায় ভুলবশত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে বিষয়টি আদালতে উপস্থাপনের পর সোমবার তার জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

জানা গেছে, জলিল হাওলাদার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার বিপিনপুর শিববাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন জেলে। গত ১৯ আগস্ট দুপুরে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে শিববাড়িয়া এলাকা থেকে আটক করে মহিপুর থানা-পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানো হয়।

তবে গ্রেপ্তারের পর থেকেই জলিলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল, যে মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে, সেটির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। পরবর্তীতে আদালতে নথিপত্র পর্যালোচনায়ও দেখা যায়, মামলার প্রকৃত আসামির পরিচয়ের সঙ্গে কারাগারে থাকা জলিলের কিছু তথ্য মিললেও গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচয়গত তথ্য আলাদা।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। ওই সময় আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী পাওনা টাকা আদায়ের জন্য জলিল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় পাওনা অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করা হয় ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। এ ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরোয়ানায় থাকা ব্যক্তির সঙ্গে কারাভোগ করা জলিল হাওলাদারের নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নামের মিল থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু পরে যাচাই করে দেখা যায়, দুই ব্যক্তির মায়ের নাম ভিন্ন। কারাগারে যাওয়া জলিলের মায়ের নাম হালিমা খাতুন। অন্যদিকে মামলার প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদারের মায়ের নাম মাজেদা। এই পার্থক্যটি গ্রেপ্তারের সময় যাচাই করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

জলিলের আইনজীবী আদালতে বিষয়টি তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মামলার প্রকৃত আসামি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে নির্দোষ জলিলকে মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতে প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপনের পর বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিক জলিল হাওলাদারের জামিন মঞ্জুর করেন।

এ ঘটনায় আদালত মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন জলিলের আইনজীবী। ফলে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বশীলতা ও পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ অবশ্য ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম হাওলাদারের ভাষ্য, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় থাকা ব্যক্তির নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা কারাগারে যাওয়া জলিলের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় ভুলবশত তাকে আটক করা হয়। সাধারণত গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় মায়ের নাম বা ফোন নম্বর উল্লেখ থাকে না। সে কারণে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয়ের পার্থক্য শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ভবিষ্যতে গ্রেপ্তারের আগে পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হবে।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম সজলও বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় মায়ের নাম না থাকায় পরিচয় শনাক্তের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ঘটনা জানার পর ওই ব্যক্তির জামিনের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে সুপারিশ করা হয়েছিল।

দীর্ঘ ২০ দিন কারাগারে থাকার পর জামিন পাওয়ায় জলিল হাওলাদার ও তার পরিবার স্বস্তি পেলেও এ ঘটনায় পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একই নাম ও বাবার নামের একাধিক ব্যক্তি থাকলে গ্রেপ্তারের আগে ঠিকানা, বয়স, পেশা ও পারিবারিক পরিচয়সহ অন্যান্য তথ্য আরও সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা কতটা জরুরি, ঘটনাটি তা সামনে এনেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!