প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কুয়াকাটা ভ্রমণে যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী একটি ডাবল ডেকার শয্যাবিশিষ্ট বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে গেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের খলিলপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাসে থাকা অন্তত ১৩ জন পর্যটক আহত হয়েছেন। তবে দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে নয়, বরং ঢাকা থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে আইকনিক পরিবহনের বাসটি। বাসটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১ ও ২০২৩ ব্যাচের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন পর্যটক ছিলেন। তারা দলবদ্ধভাবে কুয়াকাটা ভ্রমণে যাওয়ার জন্য বাসটি ভাড়া করেছিলেন।
রাতভর যাত্রার পর শুক্রবার সকালে বাসটি কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের খলিলপুর এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় কোনো একপর্যায়ে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি সড়কের পাশের একটি পুকুরে গিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় বাসের ভেতরে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে সহায়তা শুরু করেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। দুর্ঘটনায় আহত ১৩ জনকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জনের আঘাত তুলনামূলক গুরুতর হওয়ায় তাদের কলাপাড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুকুরে বাস পড়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। উদ্ধারকারীরা দ্রুত কাজ শুরু করায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাসটি কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি সামনে এলেও এর পেছনে অতিরিক্ত গতি, চালকের অসতর্কতা কিংবা সড়কের কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না হলেও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভ্রমণে বের হওয়া একটি দলের যাত্রাপথে এমন দুর্ঘটনা পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ রাতের যাত্রার পর ভোরের দিকে চালকের শারীরিক সক্ষমতা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সড়কে নিরাপদ গতিতে যানবাহন চালানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বের করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি না ঘটলেও পর্যটকবাহী বাসের এমনভাবে পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।



