রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তিন পাতার চুক্তিপত্রে লাখ টাকায় বিক্রি করা হয় শিশু মুসাকে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১০:৫০ এএম

তিন পাতার চুক্তিপত্রে লাখ টাকায় বিক্রি করা হয় শিশু মুসাকে

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় দেড় বছরের এক শিশুকে অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছে এবং এ ঘটনায় শিশুটির বাবাকে আটক করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা মো. মারুফ মুন্সির বিরুদ্ধে তাঁর দেড় বছরের ছেলে জাহিদুল ইসলাম মুসাকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্য এক ব্যক্তির কাছে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে একটি লিখিত চুক্তিপত্রের কথাও সামনে আসে, যেখানে শিশুটিকে লালন-পালনের দায়িত্ব অন্য পক্ষের কাছে হস্তান্তরের বিষয় উল্লেখ ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মারুফ পেশায় কাঠমিস্ত্রি। পারিবারিক নানা জটিলতা ও আর্থিক সংকটের কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিনি একটি দামি মুঠোফোন কিনেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত মারুফ অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি সন্তান বিক্রি করেননি। তাঁর ভাষ্য, শিশুটির যথাযথ লালন-পালনের সক্ষমতা না থাকায় পরিচিত এক পরিবারের কাছে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করলেও তিনি বলেছেন, সেটি সন্তান বিক্রির মূল্য নয়।

তবে শিশুকে অন্যের কাছে হস্তান্তর এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় প্রশাসন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালায়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে দাদা-দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শিশুটির দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার আইনি দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শিশু অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অর্থনৈতিক সংকট বা পারিবারিক সমস্যার কারণে কোনো শিশুর অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে না। শিশুদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবার দায়িত্ব। এ ঘটনা সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিশু সুরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!