প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৯:২১ এএম
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে নিজের দেড় বছরের শিশুসন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। বিক্রির পর ওই অর্থ দিয়ে নতুন মুঠোফোন কেনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশু মুসাকে উদ্ধার করেছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়। পুলিশের তৎপরতায় শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মারুফ মুন্সির সঙ্গে তার স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধ চলছিল। প্রায় এক মাস আগে ওই বিরোধের জেরে তার স্ত্রী সন্তানকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে যান বলে জানা গেছে।
এরপর শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে প্রায় ৮টার দিকে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমের কাছ থেকে ছেলে মুসাকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি শিশুটিকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেননি। সন্ধ্যা পেরিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন।
পরে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে শিশুটিকে দেওয়া হয়েছিল।
শিশু বিক্রির পর মারুফ ওই টাকা নিয়ে দ্রুত ঢাকায় চলে যান বলে জানা গেছে। সেখানে আগের মুঠোফোন পরিবর্তন করে নতুন একটি আইফোন কেনেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের নজরে আসে এবং শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়। রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ মারুফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শিশুটিকে বিক্রি করার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে যার কাছে দেওয়া হয়েছিল, সেই ইমরান হোসেনকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। পুলিশ তাকে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে তিনি শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেন। ইমরানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে তার শ্বশুর মাহাবুব গাজীর বাড়িতে রাখা হয়েছিল।
পরে রোববার রাত ১০টার দিকে মাহাবুব গাজী শিশু মুসাকে নিয়ে দশমিনা থানায় উপস্থিত হন। সেখানে পুলিশের হেফাজতে শিশুটিকে নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম জানান, পুলিশের বিশেষ কৌশলে দেড় বছরের শিশু মুসাকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসানের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার দাদা মফিজ মুন্সী ও দাদি মাহফুজা বেগমের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
শিশুটিকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে নিজের সন্তানকে অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগে বাবার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি শিশুকে এভাবে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ দেখভালের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।



