প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জন র্যাটক্লিফ অঘোষিত এক সফরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফর করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি মস্কোয় পৌঁছান বলে জানা গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্কের অবনতির মধ্যে ওয়াশিংটনের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার এ ধরনের আকস্মিক মস্কো সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার এটাই প্রথম মস্কো সফর বলে জানা গেছে। তবে র্যাটক্লিফ মস্কোয় কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন কিংবা তার সফরের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়া কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।
তবে ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, সফরটি সম্পর্কে ওয়াশিংটন আগেই কিয়েভকে অবহিত করেছিল। এমনকি মার্কিন প্রতিনিধিদল মস্কো থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক হামলা না চালানোর জন্য বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
সফরের বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি সি-১৭ পরিবহন বিমানের গতিবিধি ঘিরে। মঙ্গলবার বিমানটি লাটভিয়ার রিগা থেকে উড্ডয়ন করে মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। কয়েক ঘণ্টা মস্কোয় অবস্থানের পর একই দিনে সেটি আবার রিগায় ফিরে যায়। এ সময় মস্কোর কেন্দ্রের দিকে একটি সুরক্ষিত কূটনৈতিক গাড়িবহর চলাচলের দৃশ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সফরের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। মস্কোয় দায়িত্ব পালন করা সাবেক ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তা জন ফোরম্যানের মতে, আকস্মিক এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় রাশিয়ার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগের মধ্যেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
এ ছাড়া রাশিয়ায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তি বা বন্দি বিনিময়ের বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে বন্দি বিনিময়ের ক্ষেত্রে র্যাটক্লিফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ইউক্রেনকে সমর্থনের অভিযোগে রাশিয়ায় আটক রুশ-মার্কিন নাগরিক ক্সেনিয়া কারেলিনার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এদিকে আলাস্কায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধানের আকস্মিক মস্কো সফর নতুন কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ, বন্দি বিনিময় কিংবা ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে গোপন আলোচনার ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।



