প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
গত বুধবার, ২৬ আগস্ট সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় আকস্মিকভাবে ভয়াবহ বন্যা ও কাদামাটির স্রোত নেমে আসে। হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে বরফ, পাথর ও মাটির বিশাল অংশ ধসে নদীতে পড়ার পর মুহূর্তের মধ্যে পানির প্রবল স্রোত তৈরি হয়। সেই স্রোত পাহাড়ি উপত্যকা পেরিয়ে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ত্রিশূলী নদীসহ আশপাশের নদীগুলোর পানি দ্রুত বেড়ে গিয়ে জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
দুর্যোগের তীব্রতায় বহু বাড়িঘর, সেতু, সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। অনেক এলাকা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হলেও নিখোঁজদের সন্ধানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন উদ্ধারকারীরা।
প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগের পেছনে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে হিমবাহ বা বরফ-পাথরের বিশাল ধসকেই বন্যার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভূমিকম্পের সঙ্গে এই ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্গম অঞ্চল থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে হিমালয় অঞ্চলের মানুষের জীবন, যোগাযোগব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।



